সিলেট প্রতিনিধি: ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার কথা বলে সিলেটের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংকিং মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. খালেদুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। টাকা দেওয়ার পর প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট নিজের নামে না করে অভিযুক্তরা নিজেদের নামে সম্পত্তি কিনেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তানিয়া আক্তার (৩৪)।
শুধু অর্থ লেনদেনেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে শারীরিক লাঞ্ছনা, ভয়ভীতি, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও করেছেন ওই নারী। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে তিনি গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ৩৪১১/২৬।
ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তারের দাবি, তিনি সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ নিউ শ্যামলী মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মার্কেটের একটি দোকান কোটা পজিশন ক্রয় করে ‘ভাই ভাই গার্মেন্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগের ঘটনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে তার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তানিয়া আক্তার জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় একটি ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১২ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নগদ, বিকাশ ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে মো. খালেদুর রহমানকে মোট ৬০ লাখ টাকা দেন তিনি। এই অর্থ নিজের ব্যবসা এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করেছিলেন বলে দাবি তার।
তানিয়ার অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার নামে ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি কেনা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্টরা প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের নামে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন বলে পরবর্তীতে জানতে পারেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে টাকা ফেরত চাইলে প্রথমদিকে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে শুরু হয় সময়ক্ষেপণ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা ফেরত ও বিষয়টির সমাধান নিয়ে কথা বলতে গেলে খালেদুর রহমান তার বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একই সঙ্গে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তানিয়ার দাবি, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সমস্যা সমাধানে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এ ছাড়া খালেদুর রহমানের বড় ভাই ও কানাডাপ্রবাসী মতিউর রহমান রিয়াদ মোবাইল ফোনে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখেও তাকে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো ও রূঢ় আচরণ করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অন্যদিকে, ঋণের বোঝাও এখন তার ওপর চেপে বসেছে। অভিযোগকারী জানান, নিজের ব্যবসায়িক পজিশনটি দুই বছরের জন্য বন্ধক রেখে কিছু এনজিওর ঋণ পরিশোধ করেছেন। এখনো বিপুল পরিমাণ ঋণ বাকি থাকায় তিনি চরম আর্থিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা, টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা এবং হুমকি-ভয়ভীতির ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তানিয়া আক্তার।
তিনি বলেন, “ আমার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। আমি শুধু ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই।”
উল্লেখ্যে ২ নং বিবাদী মতিউর রহমান রিয়াদ এর অনৈতিক ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের কারণে অতিষ্ট হয়ে বিগত ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বেজগাও এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা (আমেরিকা প্রবাসে) মোখতারুর রহমান মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষনা করেন। যাহা গত ১০ জানুয়ারী মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের স্থানীয় দৈনিক সভ্যতার আলো নামক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ইং নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাহার ২য়পুত্র মতিউর রহমান রিয়াদকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষনা করেন।