• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ; কোতোয়ালি থানায় জিডি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ‘লাইনম্যান’ নন রোবেল, তবুও পুলিশের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু? চিকিৎসক উধাও জৈন্তাপুরে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, যুবক নিহত! আইনজীবীর অজ্ঞাতে ভিডিও ধারণ, অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সুরমার নওয়াগাঁও বালুমহাল বন্ধ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় ইজারাদার থানায় অপহরণের অভিযোগ, পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার—জৈন্তাপুরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি’ সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিলেট এর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগের মিলন মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত ছাতক নৌবন্দরের ইজারাদার সনি-সোহা এন্টার প্রাইজ

বিহারীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা; ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

Reporter Name / ২০৫ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বিহারীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) লিপি রাণী পালের নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগে এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই লিপি রাণী পাল নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। মাসের অধিকাংশ সময়ই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। কোনো কোনো দিন দুপুর ১২টা বা সাড়ে ১২টার দিকে ক্লিনিকে এলেও দেড়টা বা দুইটার মধ্যেই চলে যান। এতে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক খোলা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ দিনই তালাবদ্ধ থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী রোগী জানান, সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকে। মাঝে মধ্যে খোলা পেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি প্রায়ই বলেন, “ওষুধ নেই, সরকার ওষুধ দিচ্ছে না।” ফলে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজান মিয়া বলেন, “প্রায়ই ক্লিনিকে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখি। খোলা থাকলেও বলা হয় ওষুধ নেই। রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারও করা হয় না। এমন অবস্থায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।”

এছাড়া কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী উত্তেজিত হয়ে উচ্চস্বরে কথা বলেন। এতে সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানাতেও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। সেখানে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত না হলে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে সিএইচসিপি লিপি রাণী পালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে বিহারীপুর ও খোঁজারগাও এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকের নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd