• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
এনায়েত উল্লাাহ আব্বাসী’র মানহানিকর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপ’র মানববন্ধন!  সাংবাদিকদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন আজ সীমান্তে ক্ষতিকর ক্রিমসহ সাড়ে ২৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ দালালদের দৌরাত্ম্য ওসমানী হাসপাতাল থেকে হামের রোগী ‘গায়েব’, ফ্রিডম হাসপাতালে সন্ধান! অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন নিয়ে প্রশ্ন! বরুণা মাদ্রাসার নিখোঁজ শিক্ষককে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু নগরীর জালালাবাদে চাঁদাবাজির অভিযোগে ফরিদ মিয়া আটক ধর্মপাশায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর সচেতনতামূলক সভা প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ গড়ার পরিকল্পনা সরকারের ফারহানা-আওলাদের অনৈতিক পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় বিধবা মহিলার উপর হামলা, থানায় অভিযোগ! ওমানীনগরে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২০

শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Reporter Name / ২৯ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সিলেট বিভাগের পিছিয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই; প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব, শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুণগত শিক্ষার প্রসার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ জনপদ—উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় গড়ের তুলনায় সিলেটের অবস্থান নিচে। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতার ক্ষেত্রেও এই পিছিয়ে থাকা দৃশ্যমান।

তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সক্ষমতার কোনো অভাব নেই। এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইংল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শিক্ষা, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই সিলেটের পিছিয়ে থাকার কারণ মেধার ঘাটতি নয়; অবকাঠামোগত সমস্যা এবং নেতৃত্বের দুর্বলতাসহ কাঠামোগত কিছু সমস্যা এর সঙ্গে জড়িত।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের রিডিং, নিউমেরেসি এবং মৌলিক বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। সে অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন কি না, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাঠামোগত বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত খাবার না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিলের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সরকার এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে এবং সরকারের প্রধান নির্বাচনী ইশতেহারে মিডডে মিলের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতা বাড়াতেও সরকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করছে।

সিলেটে কারিগরি শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। এ অঞ্চলে নতুনভাবে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে সিলেটে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সিলেটে অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। কেউ মাসে কয়েকশ ডলার, কেউ কয়েক হাজার ডলার এবং বাংলাদেশে কেউ কেউ আরও বেশি আয় করছেন। অর্থাৎ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।

সিলেটের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমস্যার সঙ্গে সামাজিক সমস্যারও যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কিছু পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এই ধরনের সামাজিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সিলেটকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশাসনে যেসব সিলেটি কর্মকর্তা রয়েছেন তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর সিলেটের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব।

সিলেটের শিক্ষার ইতিহাস তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একসময় সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সিলেটের মানুষের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২ জনের মধ্যে ছয়জনই সিলেটের ছিলেন। পরবর্তী সময়েও সিলেটের অনেকে সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তবে বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd